CWSA Set of 37 volumes
Writings in Bengali and Sanskrit Vol. 9 of CWSA 715 pages 2017 Edition
Bengali
 PDF   

Editions

ABOUT

All writings in Bengali and Sanskrit including brief works written for the newspaper 'Dharma' and 'Karakahini' - reminiscences of detention in Alipore Jail.

Writings in Bengali and Sanskrit

Sri Aurobindo symbol
Sri Aurobindo

All writings in Bengali and Sanskrit. Most of the pieces in Bengali were written by Sri Aurobindo in 1909 and 1910 for 'Dharma', a Calcutta weekly he edited at that time; the material consists chiefly of brief political, social and cultural works. His reminiscences of detention in Alipore Jail for one year ('Tales of Prison Life') are also included. There is also some correspondence with Bengali disciples living in his ashram. The Sanskrit works deal largely with philosophical and cultural themes. (This volume will be available both in the original languages and in a separate volume of English translations.)

The Complete Works of Sri Aurobindo (CWSA) Writings in Bengali and Sanskrit Vol. 9 715 pages 2017 Edition
Bengali
 PDF   

বাংলা রচনা




জাতীয়তা




জাতীয় উত্থান

আমাদের প্রতিপক্ষীয় ইংরাজগণ বর্তমান মহৎ ও সর্বব্যাপী আন্দোলনকে আরম্ভাবধি বিদ্বেষজাত বলিয়া অভিহিত করিয়া আসিতেছেন এবং তাহাদের অনুকরণপ্রিয় কয়েকজন ভারতবাসীও এই মতের পুনরাবৃত্তি করিতে ত্রুটি করেন না ৷ আমরা ধর্মপ্রচারে প্রবৃত্ত, জাতীয় উত্থানস্বরূপ আন্দোলন ধৰ্ম্মের একটী প্রধান অঙ্গ বলিয়া তাহাতে শক্তিব্যয় করিতেছি ৷ এই আন্দোলন যদি বিদ্বেষজাত হয়, তাহা হইলে আমরা ইহা ধর্মের অঙ্গ বলিয়া কখনও প্রচার করিতে সাহসী হইতাম না ৷ বিরােধ, যুদ্ধ, হত্যা পর্যন্ত ধৰ্ম্মের অঙ্গ হইতে পারে; কিন্তু বিদ্বেষ ও ঘৃণা ধর্মের বহির্ভূত; বিদ্বেষ ও ঘৃণা জগতের ক্রমােন্নতির বিকাশে বর্জনীয় হয়, অতএব যাঁহারা স্বয়ং এই বৃত্তিগুলি পােষণ করেন কিংবা জাতির মধ্যে জাগ্রত করিবার চেষ্টা করেন, তাহারা অজ্ঞানের মােহে পতিত হইয়া পাপকে আশ্রয় দেন ৷ এই আন্দোলনের মধ্যে কখনও যে বিদ্বেষ প্রবিষ্ট হয় নাই, তাহা আমরা বলিতে পারি না ৷ যখন এক পক্ষ বিদ্বেষ ও ঘৃণা করে, তখন অপর পক্ষেও তাহার প্রতিঘাতস্বরূপ বিদ্বেষ ও ঘৃণা প্রসূত হওয়া অনিবার্য ৷ এইরূপ পাপসৃষ্টির জন্য বঙ্গদেশের কয়েকটী ইংরাজ সংবাদপত্র ও উদ্ধতস্বভাব অত্যাচারী ব্যক্তিবিশেষের আচরণ দায়ী ৷ সংবাদপত্রে প্রতিদিন উপেক্ষা, ঘৃণা ও বিদ্বেষসূচক তিরস্কার এবং রেলে, রাস্তায়, হাটে, ঘাটে গালাগালি, অপমান ও প্রহার পৰ্য্যন্ত অনেকদিন সহ্য করিয়া শেষে এই উপদ্রব-সহিষ্ণ ও ধীরপ্রকৃতি ভারতবাসীরও অসহ্য হয় এবং গালির বদলে গালি ও প্রহারের বদলে প্রহারের প্রতিদান আরম্ভ হয় ৷ অনেক ইংরাজও তাঁহাদের দেশভাইদের এই দোষ ও অশুভসৃষ্টির দায়িত্ব স্বীকার করিয়াছেন ৷ উপরন্তু রাজপুরুষগণ দারুণ ভ্রমবশতঃ অনেক দিন হইতে প্রজার স্বার্থবিরােধী, অসন্তোষজনক ও মর্মবেদনাদায়ক কাৰ্য্য করিয়া আসিতেছেন ৷ মানুষের স্বভাব ক্রোধপ্রবণ, স্বার্থে আঘাত পড়ায়, অপ্রিয় আচরণে কিম্বা প্রাণের প্রিয় বস্তু বা ভাবের উপর দৌরাত্ম করায় সেই সৰ্ব্বপ্রাণীনিহিত ক্রোধবহ্নি জ্বলিয়া উঠে, ক্রোধের আতিশয্যে ও অন্ধগতিতে বিদ্বেষ ও বিদ্বেষজাত আচরণও উৎপন্ন হয় ৷ ভারতবাসীর প্রাণে বহুকাল হইতে ইংরাজ ব্যক্তিবিশেষের অন্যায় আচরণে ও উদ্ধত কথায় এবং বর্তমান শাসনতন্ত্রে প্রজার কোনও প্রকৃত অধিকার বা ক্ষমতা না থাকায় ভিতরে ভিতরে অসন্তোষ অলক্ষিতভাবে বৃদ্ধি পাইতেছিল ৷ শেষে লর্ড কার্জনের শাসনসময়ে এই অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করিয়া বঙ্গভঙ্গজাত অসহ্য মর্মবেদনায় অসাধারণ ক্রোধ দেশময় জুলিয়া উঠিয়া রাজপুরুষদিগের নিগ্রহ-নীতির ফলে বিদ্বেষে পরিণত হইয়াছিল ৷ ইহাও স্বীকার করি যে, অনেকে ক্রোধে অধীর হইয়া সেই বিদ্বেষাগ্নিতে প্রচুর পরিমাণে ঘৃতাহুতি দিয়াছেন ৷ ভগবানের লীলা অতি বিচিত্র, তাহার সৃষ্টির মধ্যে শুভ ও অশুভের দ্বন্দ্বে জগতের ক্রমােন্নতি পরিচালিত অথচ অশুভ প্রায়ই শুভের সহায়তা করে, ভগবানের অভীপ্সিত মঙ্গলময় ফল উৎপাদন করে ৷ এই পরম অশুভের যে বিদ্বেষ সৃষ্টি, তাহারও এই শুভ ফল হইল যে, তমঃ-অভিভূত ভারতবাসীর মধ্যে রাজসিক শক্তি জাগরণের উপযােগী উৎকৃষ্ট রাজসিক প্রেরণা উৎপন্ন হইল ৷ তাহা বলিয়া আমরা অশুভের বা অশুভকারীর প্রশংসা করিতে পারি না ৷ যিনি রাজসিক অহঙ্কারের বশে অশুভ কাৰ্য্য করেন, তাঁহার কাৰ্য্য দ্বারা ঈশ্বরনির্দিষ্ট শুভফলের সহায়তা হয় বলিয়া তাহার দায়িত্ব ও ফলভােগরূপ বন্ধন কিছুমাত্র ঘুচে না ৷ যাঁহারা জাতিগত বিদ্বেষ প্রচার করেন, তাহারা ভ্রান্ত; বিদ্বেষপ্রচারে যে ফল হয়, নিঃস্বার্থ ধৰ্ম্মপ্রচারে তাহার দশগুণ ফল হয় এবং তাহাতে অধৰ্ম্ম ও অধৰ্ম্মজাত পাপফল ভােগ না হইয়া ধৰ্ম্ম বৃদ্ধি ও অমিশ্র পুণ্যের সৃষ্টি হয় ৷ আমরা জাতিগত বিদ্বেষ ও ঘৃণাজনক কথা লিখিব না, অপরকেও সেইরূপ অনর্থ-সৃষ্টি করিতে নিষেধ করিব ৷ জাতিতে জাতিতে স্বার্থবিরােধ উৎপন্ন হইলে, বা বর্তমান অবস্থার অপরিহার্য অঙ্গস্বরূপ হইলে, আমরা পরজাতির স্বার্থনাশে ও স্বজাতি-স্বার্থসাধনে আইনে ও ধৰ্ম্মনীতিতে অধিকারী ৷ অত্যাচার বা অন্যায় কাৰ্য্য ঘটিলে আমরা তাহার তীব্র উল্লেখে এবং জাতীয় শক্তির সংঘাত ও সৰ্ব্ববিধ বৈধ উপায় ও বৈধ প্রতিরােধ দ্বারা তাহার অপনােদনে আইনে ও ধৰ্ম্মনীতিতে অধিকারী ৷ কোনও ব্যক্তিবিশেষ, তিনি রাজপুরুষই হউন বা দেশবাসীই হউন, অমঙ্গলজনক অন্যায় ও অযৌক্তিক কাৰ্য্য বা মত প্রকাশ করিলে আমরা ভদ্রসমাজোচিত আচারের অবিরােধী বিদ্রুপ ও তিরস্কার করিয়া সেই কাৰ্য্য বা সেই মতের প্রতিবাদ ও খণ্ডনে অধিকারী ৷ কিন্তু কোনও জাতি বা ব্যক্তির উপর বিদ্বেষ বা ঘৃণা পােষণ বা সৃজনে আমরা অধিকারী নহি ৷ অতীতে যদি এইরূপ ৷ দোষ ঘটিয়া থাকে, সে অতীতের কথা; ভবিষ্যতে যাহাতে এই দোষ না ঘটে আমরা সকলকে এবং বিশেষতঃ জাতীয় পক্ষের সংবাদপত্র ও কার্যক্ষম যুবকবৃন্দকে এই উপদেশ দিতেছি ৷

আৰ্যজ্ঞান, আৰ্য্যশিক্ষা, আর্য্য-আদর্শ জড়জ্ঞানবাদী রাজসিক ভােগপরায়ণ পাশ্চাত্য জাতির জ্ঞান, শিক্ষা ও আদর্শ হইতে স্বতন্ত্র ৷ য়ুরােপীয়দের মতে স্বার্থ ও সুখান্বেষণের অভাবে কৰ্ম্ম অনাচরণীয়, বিদ্বেষের অভাবে বিরােধ ও যুদ্ধ অসম্ভব ৷ হয় সকাম কৰ্ম্ম করিতে হয়, নচেৎ কামনাহীন সন্ন্যাসী হইয়া বসিতে হয়, ইহাই তাহাদের ধারণা ৷ জীবিকার্থ সংঘর্ষে জগৎ গঠিত, জগতের ক্রমােন্নতি সাধিত, ইহাই তাহাদের বিজ্ঞানের মূলমন্ত্র ৷ আৰ্য্যগণ যেদিন উত্তরকুরু হইতে দক্ষিণে যাত্রা করিয়া পঞ্চনদভূমি অধিকার করিয়াছিলেন, সেইদিন হইতে এই সনাতন শিক্ষা লাভ করিয়া জগতে সনাতন প্রতিষ্ঠা লাভও করিয়াছেন যে, এই বিশ্ব আনন্দধাম, প্রেম, সত্য ও শক্তি বিকাশের জন্য সর্বব্যাপী নারায়ণ স্থাবর জঙ্গমে, মনুষ্য পশু কীটপতঙ্গে, সাধু পাপীতে, শত্রু মিত্রে, দেব অসুরে প্রকাশ হইয়া জগৎ-ময় ক্রীড়া করিতেছেন ৷ ক্রীড়ার জন্য সুখ, ক্রীড়ার জন্য দুঃখ, ক্রীড়ার জন্য পাপ, ক্রীড়ার জন্য পুণ্য, ক্রীড়ার জন্য বন্ধুত্ব, ক্রীড়ার জন্য শত্রুতা, ক্রীড়ার জন্য দেবত্ব, ক্রীড়ার জন্য অসুরত্ব ৷ মিত্র শত্রু সকলই ক্রীড়ার সহচর, দুই পক্ষে বিভক্ত হইয়া স্বপক্ষ ও বিপক্ষ সৃষ্টি করিয়াছে ৷ আৰ্য্য মিত্রকে রক্ষা করেন, শত্রুকে দমন করেন, কিন্তু তাহার আসক্তি নাই ৷ তিনি সর্বত্র, সৰ্ব্ব ভূতে, সৰ্ব্ব বস্তুতে, সৰ্ব্ব কৰ্ম্মে, সৰ্ব্ব ফলে নারায়ণকে দর্শন করিয়া ইষ্টানিষ্টে, শত্ৰুমিত্রে, সুখদুঃখে, পাপপুণ্যে, সিদ্ধি-অসিদ্ধিতে সমভাবাপন্ন ৷ ইহার এই অর্থ নহে যে সৰ্ব্ব পরিণাম তাহার ইষ্ট, সৰ্ব্ব জন তাহার মিত্র, সৰ্ব্ব ঘটনা তাহার সুখদায়ক, সৰ্ব্ব কৰ্ম্ম তঁাহার আচরণীয়, সৰ্ব্ব ফল তাহার বাঞ্ছনীয় ৷ সম্পূর্ণ যােগপ্রাপ্তি না হইলে দ্বন্দ্ব ঘুচে না, সেই অবস্থা অল্পজনপ্রাপ্য, কিন্তু আৰ্য্যশিক্ষা সাধারণ আৰ্য্যের সম্পত্তি ৷ আৰ্য্য ইষ্টসাধনে ও অনিষ্টবর্জনে সচেষ্ট হয়েন কিন্তু ইষ্টলাভে জয়মদে মত্ত হন না, অনিষ্টসম্পাদনে ভীত হন না ৷ মিত্রের সাহায্য, শত্রুর পরাজয় তঁাহার চেষ্টার উদ্দেশ্য হয়, কিন্তু তিনি শত্রুকে বিদ্বেষ ও মিত্রকে অন্যায় পক্ষপাত করেন না, কৰ্ত্তব্যের অনুরােধে স্বজন-সংহারও করিতে পারেন, বিপক্ষের প্রাণরক্ষার জন্য প্রাণত্যাগ করিতে পারেন ৷ সুখ তাহার প্রিয়, দুঃখ তাহার অপ্রিয় হয়, কিন্তু তিনি সুখে অধীর হন না, দুঃখেও তাহার ধৈর্য্য ও প্রীতভাব অবিচলিত হইয়া থাকে ৷ তিনি পাপবর্জন ও পুণ্যসঞ্চয় করেন, কিন্তু পুণ্যকর্মে গর্বিত হয়েন না, পাপে পতিত হইলে দুর্বল বালকের ন্যায় ক্রন্দন করেন না, হাসিতে হাসিতে পঙ্ক হইতে উঠিয়া কর্দমাক্ত শরীরকে মুছিয়া পরিষ্কার ও শুদ্ধ করিয়া পুনরায় আত্মােন্নতিতে সচেষ্ট হয়েন ৷ আৰ্য কৰ্ম্মসিদ্ধির জন্য বিপুল প্রয়াস করেন, সহস্র পরাজয়েও বিরত হন না, কিন্তু অসিদ্ধিতে দুঃখিত, বিমর্ষ বা বিরক্ত হওয়া তাহার পক্ষে অধৰ্ম্ম ৷ অবশ্য যখন কেহ যােগারূঢ় হইয়া গুণাতীতভাবে কৰ্ম্ম করিতে সমর্থ হয়েন, তাঁহার পক্ষে দ্বন্দ্ব শেষ হইয়াছে, জগন্মাতা যে কাৰ্য্য দেন, তিনি বিনাবিচারে তাহাই করেন, যে ফল দেন, সানন্দে তাহা ভােগ করেন, স্বপক্ষ বলিয়া যাঁহাকে নির্দিষ্ট করেন, তাহাকে লইয়া মায়ের কাৰ্য্য সাধন ৷ করেন, বিপক্ষ বলিয়া যাঁহাকে দেখান, তাহাকে আদেশমত দমন বা সংহার করেন ৷ এই শিক্ষাই আৰ্য্যশিক্ষা ৷ এই শিক্ষার মধ্যে বিদ্বেষ বা ঘৃণার স্থান নাই ৷ নারায়ণ সর্বত্র ৷ কাহাকে বিদ্বেষ করিব, কাহাকে ঘৃণা করিব? আমরা যদি পাশ্চাত্য ভাবে রাজনীতিক আন্দোলন করি, তাহা হইলে বিদ্বেষ ও ঘৃণা অনিবাৰ্য্য হয় এবং পাশ্চাত্য মতে নিন্দনীয় নহে, কেননা স্বার্থের বিরােধ আছে, একপক্ষে উত্থান, অন্যপক্ষে দমন চলিতেছে ৷ কিন্তু আমাদের উত্থান কেবল আৰ্যজাতির উত্থান নহে – আৰ্য্যচরিত্র, আৰ্য্যশিক্ষা, আৰ্য্যধৰ্ম্মের উত্থান ৷ আন্দোলনের প্রথম অবস্থায় পাশ্চাত্য রাজনীতির প্রভাব বড় প্রবল ছিল, তথাপি প্রথম অবস্থায়ও এই সত্য উপলব্ধ হইয়াছে; মাতৃপূজা, মাতৃপ্রেম, আৰ্য্য অভিমানের তীব্র অনুভবে ধৰ্ম্ম-প্রধান দ্বিতীয় অবস্থা প্রস্তুত হইয়াছে ৷ রাজনীতি ধৰ্ম্মের অঙ্গ, কিন্তু তাহা আৰ্য্যভাবে, আৰ্য্যধর্মের অনুমােদিত উপায়ে আচরণ করিতে হয় ৷ আমরা ভবিষ্যৎ আশাস্বরূপ যুবকদিগকে বলি, যদি তােমাদের প্রাণে বিদ্বেষ থাকে, তাহা অচিরে উম্মলিত কর ৷ বিদ্বেষের তীব্র উত্তেজনায় ক্ষণিক রজঃপূর্ণ বল সহজে জাগ্রত হয় ও শীঘ্র ভাঙ্গিয়া দুৰ্ব্বলতায় পরিণত হয় ৷ যাঁহারা দেশােদ্ধারার্থ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ও উৎসর্গীকৃত ৷ প্রাণ তাহাদের মধ্যে প্রবল ভ্ৰাতৃভাব, কঠোর উদ্যম, লৌহসম দৃঢ়তা ও জ্বলন্ত অগ্নিতুল্য তেজ সঞ্চার কর, সেই শক্তিতে আমরা অটুটবলান্বিত ও চিরজয়ী হইব ৷









Let us co-create the website.

Share your feedback. Help us improve. Or ask a question.

Image Description
Connect for updates